ইসলাম যে সত্য ধর্ম তার প্রমাণ কি?
উত্তর:
আর ওদেরকে যখন বলা হয়
‘আল্লাহ্
যা অবতীর্ণ করেছেন তোমরা তার অনুসরণ করো,’ তারা বলে,
‘না, না, আমাদের
পূর্বপুরুষদের যেমন দেখেছি আমরা তা-ই অনুসরণ করব’। যদি
শয়তান তাদেরকে জ্বলন্ত আগুনের দিকে ডাকে, তবুও কি?
– সূরা লুক্বমান (৩১:২১)
আপনার কাছে কেউ যদি
এসে বলে, ২ আর ২ যোগ করলে ৩ হয়, কেউ যদি এসে বলে ৪ হয়
আর কেউ যদি বলে ৫ হয় – তখন আপনি
তাদের বিবাদ মিটানোর জন্য কি করবেন? আপনি আপনার যুক্তি ও
বুদ্ধি প্রয়োগ করবেন, এবং যেই উত্তরটাকে আপনি প্রমাণ করতে
পারবেন সেটাইকেই সত্য বলে গ্রহণ করবেন। পৃথিবীর সব কিছুই যেহেতু আমরা যুক্তি দিয়ে,
বুদ্ধি দিয়ে আমরা বিচার করি, তাহলে কোন্
ধর্ম সত্য তা বুঝার জন্যও আমরা কেন যুক্তি আর বুদ্ধি ব্যবহার করব না?
বলুন, যদি তোমরা
সত্যবাদী হও, তবে প্রমাণ উপস্থাপন করো। – (সূরা বাক্বারাহ্ ২:১১১)
আপনি যদি কোন
অমুসলিমকে জিজ্ঞেস করেন – তুমি কিভাবে
প্রমাণ করবে যে তোমার ধর্ম সত্য? বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আপনি
যে উত্তর পাবেন তা হলো – আমি আমার
ঈশ্বরকে ডেকে প্রার্থনা করলে তা কবুল হয়, সুতরাং আমার
ধর্মই সত্য ধর্ম। আসলে এটা কোন প্রমান হলো না। যদি প্রার্থনা কবুল হওয়াই কোন
ধর্ম সত্য কিনা তা প্রমাণ করতে পারে তাহলে পৃথিবীর সব ধর্মই সত্য, কারণ সব ধর্মের মানুষেরই বিভিন্ন প্রার্থনা কবুল হয়ে থাকে। কিন্তু,
বিভিন্ন ধর্মগুলোর মধ্যে কনফ্লিক্টিং ব্যাপার থাকার কারণে সব
ধর্মই সত্য হতে পারে না।
কোনো ধর্ম সত্য না
মিথ্যা তা প্রমান করার জন্য আমাদেরকে সেই ধর্মের গ্রন্থগুলোর দিকে ফিরে যেতে হবে। যেহেতু সব ধর্মের
মানুষই দাবী করে তাদের ধর্মগ্রন্থ তাদের ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে , কাজেই সেই
ধর্মের গ্রন্থে সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই এমন কিছু দিয়ে দেবেন যার দ্বারা মানুষ বুঝতে
পারবে যে ঐ ধর্মটা সন্দেহাতীতভাবে সত্য।
ইসলামে ধর্মের সত্যতার
অসংখ্য প্রমান আছে,
যেমন স্রষ্টার সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য (তাওহীদ), কোরআনের কাব্যিক, বৈজ্ঞানিক, সংরক্ষণ সহ বিবিধ আশ্চর্য বিষয়, রাসূলুল্লাহ(সা)
এর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা ইত্যাদি। কিন্তু, এই লেখায় আমি
শুধু একটি প্রমানের কথাই বলব – সেটা হলো
তাওহীদ।
যে কোন ধর্মেরই সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ন অংশ হচ্ছে স্রষ্টা ও তাঁর বৈশিষ্ট্য। কাজেই, কোন ধর্ম
স্রষ্টার সংজ্ঞাই যদি ঠিক মত দিতে না পারে তাহলে তা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য ধর্ম হতে
পারে না। আপনি ইসলাম ছাড়া পৃথিবীর অন্য যে কোন ধর্ম নিয়েই পড়াশুনা করতে যান, আপনাকে সেই
ধর্মের প্রচারকেরা বলবে যে স্রষ্টার অস্তিত্ব একটা আবেগীয় ব্যাপার, এটা প্রমান করা সম্ভব না, এটা তর্ক-বিতর্কের
বিষয় না, অথবা তারা স্রষ্টার এমন সব বৈশিষ্ট্যের কথা বলবে
– যে আপনি অবশ্যই কনফিউজড হয়ে
পড়বেন । স্রষ্টার সংজ্ঞার ব্যাপারে একমাত্র ইসলাম ধর্মই ব্যতিক্রম। সুরা ইখলাসে
আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’আলার বৈশিষ্ট্য এত সুন্দর করে
বর্ণনা করে হয়েছে, যে এরপর স্রষ্টা সম্পর্কে আর কোন
দ্বিধা-দ্বন্দের অবকাশ থাকে না।
বলুন – তিনিই আল্লাহ্, এক ও
অদ্বিতীয়। সবাই তার মুখাপেক্ষী, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন।
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। এবং কেউই তার সমকক্ষ নয়। – সূরা ইখলাস (১১২:১-৪)
আমার আগের লেখায় যুক্তি দিয়ে আল্লাহ্র অস্তিত্বের যে প্রমান দেয়া
হয়েছে, আল্লাহ্র যে বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা বলা হয়েছে,
পৃথিবীর আর কোন ধর্মই আল্লাহ্ সম্পর্কে আপনাকে এত যৌক্তিক ও সরল
উত্তর দিতে পারবে না। আল্লাহ্ এক, তার সাথে তুলনা করা
যায় এরকম আর কিছুই নেই, তিনি সর্বশক্তিমান, তাই সব মাধ্যম ছেড়ে সরাসরি তার ইবাদত করতে হবে – এর চেয়ে সহজ আর কিছু হতে পারে? তাওহিদের বানী এতটাই সরল ও সহজাত যে কোনও মানুষ – সে শিক্ষিতই হোক আর অশিক্ষিতই হোক, তরুনই হোক আর বৃদ্ধই হোক – খুব সহজেই এটা
তার হৃদয়ে ক্লিক করে।
আল্লাহ মানুষকে এক স্রষ্টায় বিশ্বাসের সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে পৃথিবীতে
পাঠিয়েছেন। ইসলামের ভাষায় একে ফিতরা বলে। পৃথিবীর ২০টিরো বেশী
দেশে অন্য ধর্ম থেকে ইসলামে ফিরে আসা মানুষদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, তাদের মুসলিম
হওয়ার পেছনে সবচাইতে বেশী যা তাদের প্রভাবিত করেছে তা হলো – আল্লাহ এক (তাওহীদ) [সূত্র: Contemporary
Issues – Dr. Bilal Philips]।
আপনি একনিষ্ঠভাবে
নিজেকে ধর্মে প্রতিষ্ঠিত রাখুন। আপনি ফিতরাহ্ এর অনুসরণ করুন, যা দিয়ে তিনি
মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ্র সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন করা না হোক। এটাই সরল
ধর্ম; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। -সূরা রুম
(৩০:৩০)
আল্লাহ্র ইচ্ছায় এক ইসলাম ছাড়া পৃথিবীর আর সকল ধর্মে God এর ধারনা
বেশ কনফিউজিং। হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের
ধারণা বেশ জটিল। হিন্দুরা এক ব্রাক্ষ্মণ-এ বিশ্বাস করলেও তাদের চারটি সেক্ট (saivism, shaktism, vaishnavism,
smartism) এর ভিন্ন ভিন্ন দেবতা আছে [২]। এই চার সেক্ট ঈশ্বরকে
ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকে, ভিন্ন ভিন্ন মূর্তি বানায় এবং
তাদের ঈশ্বর সংক্রান্ত ধারণাও ভিন্ন। কিন্তু, সব সেক্টই
প্যান্থেইসম-এ বিশ্বাস করে। যার অর্থ হচ্ছে – স্রষ্টা আর সৃষ্টির মধ্যে কোন পার্থক্য নাই, যা
কিছু আমরা দেখি তার সবই স্রষ্টা আর সবই সৃষ্টি। এই বিশ্বাসের ফলে হিন্দুরা মূর্তি,
পাথর, গাছ, এমনকি
কেউ কেউ শিশ্ন আর যোনিকেও পূজা করে, বেশীরভাগ
হিন্দু গোমূত্র আর গোবরকে পূজার উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করে। হিন্দু ধর্মের ঈশ্বর পৃথিবীতে দেবতা রূপে এসে ধর্ষণ, পরকীয়াসহ এমন সব কাজ করে যা কিছুতেই সৃষ্টিকর্তার কাজ হতে পারে না [৩]।
অন্যদিকে, খ্রীষ্টানরা বলবে ঈশ্বর তাঁর ছেলে
যীশুকে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন এবং মানুষের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসাবে
স্যাক্রিফাইস পর্যন্ত করেছেন। কিন্তু মানুষের
সন্তান যেমন মাছ হতে পারে না, তেমনি অসীম ঈশ্বরের সন্তান কিভাবে সসীম মানুষ হতে পারে তা বোধগম্য নয়। নিজে ‘ঈশ্বর’
হওয়া সত্ত্বেও তিনি মানুষের মতই খাওয়া-দাওয়া করতেন, ঘুমাতেন, ঈশ্বরের কাছে সেজদা করতেন, তাঁর সাহায্য চাইতেন, এমনকি সাধারণ মানুষেরা
মিলে এই ‘ঈশ্বর’কে হত্যা পর্যন্ত
করে ফেলেছে! শুধু তাই না, খ্রীষ্টানদের
ঈশ্বর পুরো মহাবিশ্বের পালনকর্তা হলেও তার ক্ষমতা এতই সীমিত যে স্বর্গে আদম তাকে
ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে থাকতে পারে [৪]! বাইবেলে ইব্রাহিম(আ) কে নবী বলা হয়েছে, বাইবেলের ইব্রাহিম(আ) কিন্তু ট্রিনিটি (তিন ঈশ্বরের ধারণা) প্রচার
করেননি, তিনি এক ঈশ্বরের কাছেই মানুষকে আত্মসমর্পণ করতে
বলেছেন অর্থাৎ তিনি ইসলাম ধর্মই প্রচার করেছেন।
অন্যদিকে ইহুদীরা বলে তারা আল্লাহ্র Chosen People. ইহুদী হয়ে জন্মাতে হয়, ইহুদীতে ধর্মান্তরিত
হওয়া যায় না [১]। ইহুদীরা বলে ঈশ্বর নিষ্ঠুর, তারা ঈশ্বরকে
অভিশাপ দেয় কারণ তাদের উপর একের পর এক গজব নেমে এসেছিল। আর, বৌদ্ধ ধর্ম তো স্রষ্টা সম্পর্কে কোনো স্বচ্ছ ধারণাই দেয় না।
মোদ্দা কথা, পৃথিবীর বাকী সব ধর্মে সৃষ্টিকর্তার
সংজ্ঞা এত কনফিউজিং, কোন চিন্তাশীল মানুষ সহজেই বুঝতে
পারবে যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম সত্য ধর্ম হতে পারে না।
তবে কি ওরা কোরআন সম্বন্ধে মন দিয়ে চিন্তা করে না? নাকি ওদের
অন্তরে তালা লেগেছে? – সূরা
মুহাম্মাদ (সা) (৪৭:২৪)
রেফারেন্স:
