শিরোনাম

বাড়ছে মানুষ বাড়ছে বাড়ি হ্রাস পাচ্ছে জমি...




নিপুণ চন্দ্র দশমিনা (পটুয়াখালী):


ফি বছর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষ, বাড়ছে নতুন নতুন বাড়িঘর। অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট ,বাড়ীঘর নির্মানের ফলে ফসলি জমি দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। অপর দিকে রাক্ষুসে বুড়াঁগৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে স্থলভাগের মানচিত্র ছোট করে দিচ্ছে। ফলে বাসস্তান,খাদ্য, চিকিৎসার মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধা ও উন্নত যোগাযোগ বঞ্চিত রয়েযাচ্ছে। দশমিনায় জনসংখ্যার নিয়ন্ত্রনহীতার ফলে হূ-হূ করে মানুষ বাড়ছে ,অপর দিকে  আবাসনে কমে যাচ্ছে ফসলি জমি। অভিজ্ঞ মহলের ধারনা এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০/৩০ বছরের মধ্যে ব্যপক খাদ্যাভাব সহ অপুরনী ক্ষতির সম্মুখীন হবে উপজেলার প্রায় দের লাখ মানুষ।
উপজেলা কৃষি ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট ৩৩হাজার ৭২৫হেক্টর জমি রয়েছে। মোট জমির মধ্যে ২৫হাজার ৭২৫ হেক্টর চাষাবাদ করা হয় এবং প্রায় ৮হাজার ৫০একর জমি বাড়ী, রাস্তা, পুকুর ব্যবহৃত হয়েছে। অপর দিকে উপজেলা সদরসহ ৩টি ইউনিয়নে স্বাধীনতার পর রাক্ষুসে তেতুঁলিয়া ও বুড়াঁগৌরাঙ্গ নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে প্রায় ১০হাজার একর ফসলি জমি সহ ৬টি গ্রাম, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির বিলীন হেেয় গেছে। প্রতি বছর প্রায় ৫০/৬০একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় বলে স্থাণীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান সূত্রে জানা যায়, ২০০১সালে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ২৭হাজার ৪১৮টি বাড়ির মধ্যে মোট ২৩হাজার ৮০১টি বাড়িতে লোকজন বসবাস করছে। অবশিষ্ট ৩ হাজার ৬১৭টি বাড়িতে কোন লোকজন বসাবাস করছেনা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতি বছর ফসলি জমিতে শতশত বাড়ি নির্মান (মাটির কাজ) করা হয়। ঐ সব বাড়িতে সরাসরি কোন লোকজন বসবাস করেনা। বাড়ীর মালিকরা নতুন বাড়িতে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপন করে। ২/৩বছর পর নতুন বাড়িতে ঘর নির্মান কাজ সম্পন্ন হলে মালিকরা বসবাস শুরু করে।
স্বাস্থ্য জরিপ সূত্রে আরও জানা যায়, ২০০১সালে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নে ৪হাজার ৪০২টি নতুন বাড়ী নির্মান করা হয়েছে। নির্মিত বাড়ূী গুলোর মধ্যে ৩হাজার ৮৬৪টি বাড়িতে লোকজন বসবাস করে। আলীপুর ইউনিয়নে ৪হাজার ২৮৮টি বাড়ির মধ্যে ৩হাজার ৬৮৭টি, বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নে ৪হাজার ১২০টির মধ্যে ৩হজার ৫৫০টি, দশমিনা ইউনিয়নে ৫হাজার ৫০৬টির মধ্যে ৪হাজার ৮১৫টি, বহরমপুর ইউনিয়নে ৪হাজার ৬১৪টির মধ্যে ৪হাজার ৫৮টি, বাশঁবাড়ীয়া ৪হাজার ৪৮৮টি বাড়ির মধ্যে ৩হাজার ৮২৭টি বাড়িতে লোকজন বসবাস করছেন। ২০০৮সালের জরিপে তা দাড়িয়েছে ২৯হাজার ২৩০টি বাড়িতে । নতুন বাড়ি ঘর বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়া ব্যাহত থাকায় ফসলি জমির পরিমান দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত বাড়ি-ঘর,রাস্তা-ঘাট নির্মান করায় পানিসেচ ও পানি নিস্কাশন মারত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। তবে এসব বাড়ি ঘর নির্মানের পিছনে রয়েছে জনসংখ্যার ক্রমাগত বৃদ্ধি। আবার বুড়াঁগৌরাঙ্গ তেতুঁলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনের ফল নতুন বাড়ী হওয়ার জন্যে অনেকটা দ্বায়ী বলে মনে করেন স্থানীয় অভিজ্ঞমহল।